জ্ঞান থেকে কর্মক্ষেত্র: প্রতিটি ধাপে আপনার সাথে

Join us on Telegram

Join Now

Join us on Whatsapp

Join Now

ড্রাইভিং লাইসেন্স নতুন নিয়ম: ৬০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক, ভাতা দেবে সরকার

ড্রাইভিং লাইসেন্স নতুন নিয়ম: ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে ভবিষ্যতে ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। সরকার এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে এবং প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতাও দেবে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স নতুন নিয়ম: ৬০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ ও ভাতা

ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে। ভবিষ্যতে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে আগ্রহীদের অবশ্যই ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এই প্রশিক্ষণ সরকার কর্তৃক স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে সম্পন্ন করতে হবে। শুধু তাই নয়, যারা এই প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন, তাদের সরকার থেকে একটি ভাতাও প্রদান করা হবে।

এই যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি জানান, সড়ককে নিরাপদ ও যানজটমুক্ত করার লক্ষ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের পদ্ধতি সম্পূর্ণ ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

কেন এই আমূল পরিবর্তন?

সড়ক দুর্ঘটনা এবং তীব্র যানজটের পেছনে মূল কারণ হিসেবে অদক্ষ এবং প্রশিক্ষণহীন চালকদের দায়ী করা হয়েছে। উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, “আমাদের সড়কে এই যে দুর্ঘটনা এবং যানজট হয়, এগুলোর আসল কারণটা কিন্তু আমরা সবাই জানি। যানজট এবং দুর্ঘটনার প্রধান কারণ ড্রাইভাররা (চালক) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত না।”

এই সমস্যা সমাধানের জন্যই সরকার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের পুরো পদ্ধতি পরিবর্তন করছে। নতুন সিস্টেমের মূল ভিত্তি হবে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ। বর্তমানে লাইসেন্স দেওয়ার জন্য যে কমিটি পদ্ধতি চালু আছে, তা বিলুপ্ত করা হবে।

নতুন নিয়মে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া

নতুন নিয়মে লাইসেন্স পাওয়ার প্রথম এবং প্রধান শর্ত হবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ। আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে এই পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে।

কারা দেবে এই প্রশিক্ষণ? এই ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ অবশ্যই সরকার স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে নিতে হবে। ফাওজুল কবির খান জানান, বিআরটিসি, সেনাবাহিনী এবং পুলিশের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকেও এই কার্যক্রমে উৎসাহিত করা হবে।

প্রশিক্ষণে কী কী শেখানো হবে? প্রশিক্ষণটি মূলত দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত থাকবে। প্রথম ভাগে, চালকদের সড়কের বিভিন্ন চিহ্ন, সংকেত এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে বিস্তারিত শেখানো হবে। দ্বিতীয় ভাগে থাকবে গাড়ি সঠিকভাবে পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ ড্রাইভিংয়ের ওপর বাস্তব প্রশিক্ষণ। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই এই নতুন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য সুখবর: ভাতা প্রদান

নতুন এই পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য একটি বড় সুখবর রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, যারা এই ৬০ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন, তাদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে ভাতাও প্রদান করা হবে। এটি সাধারণ মানুষকে পেশাদার প্রশিক্ষণ গ্রহণে আরও বেশি উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিআরটিএ-এর ভূমিকায় বড় পরিবর্তন

এই সংস্কারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)-এর ভূমিকাতেও বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। উপদেষ্টার মতে, বিআরটিএকে একটি নিয়ন্ত্রণমূলক সংস্থা থেকে সেবামূলক সংস্থায় পরিণত করার পরিকল্পনা চলছে।

চাকরি থেকে1st Class Driver Job at Mongla Port Authority (MPA)

লাইসেন্স প্রদান সংক্রান্ত বেশিরভাগ কাজ ড্রাইভিং ইনস্টিটিউটগুলোর হাতে হস্তান্তর করা হবে। এর ফলে বিআরটিএ-এর নিয়ন্ত্রণমূলক ক্ষমতা কমবে এবং প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকসেবায় বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে অন্যান্য পদক্ষেপ

আলোচনা সভায় সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর জন্য আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা জানানো হয়।

মোটরসাইকেল চালকদের জন্য বিশেষ বার্তা উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশিরভাগ সড়ক দুর্ঘটনা মোটরসাইকেলের মাধ্যমে ঘটছে। এর ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর হারও বাড়ছে। এ কারণে মানসম্মত হেলমেটের ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে। সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যেসব সড়কে নির্মাণকাজ চলছে, সেসব এলাকায় ১০ হাজার হেলমেট বিতরণ করা হবে।

ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নতুন সহায়তা নীতি সড়ক দুর্ঘটনায় কোনো পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মারা গেলে সেই পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে যায়। আইনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৫ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়ার বিধান থাকলেও অনেকেই তা পান না। পূর্বে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে এই সহায়তার জন্য আবেদন করতে হতো। কিন্তু এখন থেকে সরকার নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে খুঁজে বের করবে এবং এই আর্থিক সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেবে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করার এই সিদ্ধান্ত দেশের সড়ক নিরাপত্তায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। প্রশিক্ষিত চালক নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকার একইসাথে সড়ক দুর্ঘটনা এবং যানজট উভয়ই কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে। এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা একটি নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা পালন করবে।

সূত্র: প্রথম আলো

আরও পড়ুনঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১২ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইন

Related Posts

এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬

এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: অনিয়মিত, ফেল করা ও জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের করণীয় কী? কোন সিলেবাসে পরীক্ষা?

মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি-তে ‘Management Trainee Officer’ পদে চাকরি

Meghna Bank Job Circular 2025

মেঘনা ব্যাংক পিএলসি-তে রিলেশনশিপ ম্যানেজার (সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স) পদে চাকরি, কর্মস্থল: ঢাকা

Leave a Comment