জ্ঞান থেকে কর্মক্ষেত্র: প্রতিটি ধাপে আপনার সাথে

Join us on Telegram

Join Now

Join us on Whatsapp

Join Now

প্রবাসী কর্মীর সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি ২০২৫: যোগ্যতা ও আবেদন (সম্পূর্ণ গাইড)

প্রবাসী কর্মীর সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি ২০২৫: ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড প্রবাসী কর্মীর মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি ২০২৫-এর আবেদন শুরু। প্রবাসী কর্মীর সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি-আবেদন যোগ্যতা, শর্তাবলী, ও অনলাইনে আবেদনের (stipen.wewb.gov.bd/stipend) পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া জানতে পড়ুন।

প্রবাসী কর্মীর সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি ২০২৫

আপনি যদি একজন প্রবাসী কর্মী হন, তবে আপনার সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য এটি একটি দারুণ খবর। আপনার সন্তান কি ২০২৫ সালের এসএসসি (বিজ্ঞান জিপিএ ৫.০০) বা ২০২৪ সালের এইচএসসি (বিজ্ঞান জিপিএ ৪.৮০) পরীক্ষার্থী? আপনি যদি প্রবাসী কর্মী হন, তবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (Wage Earners’ Welfare Board – WEWB) আপনার সন্তানের পড়াশোনার জন্য দিচ্ছে বিশেষ শিক্ষাবৃত্তি।

প্রতি বছর হাজার হাজার প্রবাসী কর্মী তাদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন। তাদের এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এই বিশেষ শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে।

কিন্তু প্রতি বছরই দেখা যায়, অনেক যোগ্য শিক্ষার্থী শুধুমাত্র আবেদন প্রক্রিয়ার ছোটখাটো ভুলের কারণে এই আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়। যেমন, ‘প্রবাসী কর্মী’র সঠিক প্রমাণপত্র না দেওয়া, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যে গরমিল, বা দূতাবাসের প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ না করা।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড শিক্ষাবৃত্তি ২০২৫

এই আর্টিকেলে আমরা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড শিক্ষাবৃত্তি ২০২৫-এর আবেদন প্রক্রিয়া, শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আবেদনের শেষ তারিখ (২৫ নভেম্বর ২০২৫) নিয়ে প্রতিটি ধাপ বিস্তারিত আলোচনা করব। আমাদের লক্ষ্য, আপনার আবেদনটি যেন শতভাগ নির্ভুল হয়।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড শিক্ষাবৃত্তি 2025: এক নজরে

এই শিক্ষাবৃত্তিটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর পেছনের কর্তৃপক্ষ কারা? এটি জানা আপনার আস্থার জন্য জরুরি।

সরকারের অফিসিয়াল তথ্য

এই শিক্ষাবৃত্তিটি সরাসরি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-এর অধীনস্থ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (WEWB) কর্তৃক পরিচালিত হয়। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে যে বিশাল অবদান রাখছে, তারই স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার ২০১২ সাল থেকে প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের এই বিশেষ বৃত্তি প্রদান করে আসছে। এই আর্টিকেলের সকল তথ্য WEWB-এর সর্বশেষ ২০২৫ সালের সার্কুলার অনুযায়ী যাচাইকৃত।

আসুন, এক নজরে পুরো বিষয়টি দেখে নিই

বিষয় বিবরণ
বৃত্তির নাম প্রবাসী কর্মীর সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি ২০২৫
প্রদানকারী সংস্থা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (WEWB)
আবেদনের ধরণ সম্পূর্ণ অনলাইন
অফিসিয়াল পোর্টাল https://wewb.gov.bd
যোগ্য ব্যাচ (এসএসসি) ২০২৫ সাল ও সমমান
যোগ্য ব্যাচ (এইচএসসি) ২০২৪ সাল ও সমমান (এবং ডিপ্লোমা)
আবেদন শুরুর তারিখ ১২ অক্টোবর ২০২৫
আবেদনের শেষ তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০২৫ (রাত ১১:৫৯ মিনিট)
আবেদন ফি প্রযোজ্য নয় (সম্পূর্ণ বিনামূল্যে)

কারা এই প্রবাসী শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন? (মূল শর্তাবলি)

আবেদন করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো আপনি বা আপনার সন্তান এই বৃত্তির জন্য যোগ্য কিনা তা নিশ্চিত করা। যোগ্যতা মূলত দুটি বিষয়ের উপর নির্ভরশীল: অভিভাবকের প্রবাসী স্ট্যাটাস এবং শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত ফলাফল

যে সকল প্রবাসী কর্মীর সন্তান আবেদনযোগ্য

সব প্রবাসী কর্মীর সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই বৃত্তির জন্য যোগ্য নন। বোর্ড দুটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি নির্ধারণ করে দিয়েছে:

১. কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত প্রবাসী কর্মী:

  • কর্মীর অবশ্যই বিএমইটি (BMET)-এর ডাটাবেজভুক্ত হতে হবে। এর মানে হলো, তিনি বৈধভাবে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে গিয়েছেন।
  • অথবা, কর্মীর অবশ্যই ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মেম্বারশীপ গ্রহণ করতে হবে এবং সদস্যপদ সক্রিয় থাকতে হবে।
  • অবসরপ্রাপ্ত প্রবাসী কর্মী, যারা বৈধভাবে বিদেশে কর্মরত ছিলেন, তাদের সন্তানরাও আবেদন করতে পারবেন।

২. মৃত প্রবাসী কর্মী:

  • যে সকল প্রবাসী কর্মী বিদেশে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন এবং যাদের পরিবার ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে আর্থিক অনুদান (যেমন, দাফন বা মরদেহ পরিবহন খরচ) পেয়েছেন, তাদের সন্তানরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
  • এই ক্ষেত্রে, শিক্ষাগত যোগ্যতার (জিপিএ) মানদণ্ড কিছুটা শিথিল করা হয়েছে, যা আমরা পরবর্তী বিভাগে আলোচনা করব।

কারা আবেদন করতে পারবেন না?

  • যে সকল ব্যক্তি সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় বিদেশে (যেমন: দূতাবাস, জাতিসংঘ মিশন, বা অন্য কোনো সংস্থায়) প্রেষণে (Deputation) কর্মরত আছেন, তাদের সন্তানরা এই বৃত্তির আওতাভুক্ত হবেন না
  • যাদের অভিভাবক অবৈধভাবে বিদেশে অবস্থান করছেন বা WEWB-এর সদস্য নন, তারা যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জিপিএ (এসএসসি ২০২৫ ও এইচএসসি ২০২৪ ব্যাচ)

আপনার অভিভাবক যদি উপরের শর্ত পূরণ করেন, তবে এবার আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা মিলিয়ে দেখতে হবে। বোর্ড বিভিন্ন বিভাগ এবং প্রবাসীর ধরনের (কর্মরত/মৃত) উপর ভিত্তি করে আলাদা আলাদা জিপিএ নির্ধারণ করেছে।

আবেদনকারীর ন্যূনতম জিপিএ কত লাগবে?

আবেদনের জন্য ন্যূনতম যে জিপিএ প্রয়োজন, তা নিচের টেবিলে বিস্তারিত দেওয়া হলো। মনে রাখবেন, এটি ন্যূনতম যোগ্যতা। চূড়ান্ত নির্বাচন সাধারণত মেধার ভিত্তিতে (জিপিএ-এর ক্রমানুসারে) করা হয়।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জিপিএ-এর তালিকা

ক্যাটাগরি প্রবাসীর ধরন বিজ্ঞান বিভাগ (জিপিএ) মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা (জিপিএ)
এসএসসি / সমমান (২০২৫) কর্মরত ৫.০০ ৪.৭৫
এসএসসি / সমমান (২০২৫) মৃত ৪.০০ ৪.০০
এইচএসসি / সমমান (২০২৪) কর্মরত ৪.৮০ ৪.৫০
এইচএসসি / সমমান (২০২৪) মৃত ৪.০০ ৪.০০
ডিপ্লোমা (২০২৪) কর্মরত ৩.৫০ (সিজিপিএ) প্রযোজ্য নয়
ডিপ্লোমা (২০২৪) মৃত ৩.০০ (সিজিপিএ) প্রযোজ্য নয়

গুরুত্বপূর্ণ নোট:

  • সমমান: এসএসসি বলতে দাখিল এবং এইচএসসি বলতে আলিম ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের বোঝানো হয়েছে।
  • ডিপ্লোমা: যারা ২০২৪ সালে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং / ডিপ্লোমা-ইন-এগ্রিকালচার বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, তারাও আবেদন করতে পারবেন।
  • ভর্তি: আবেদনকারীকে অবশ্যই এসএসসি/সমমান পাসের পর একাদশ শ্রেণি/ডিপ্লোমা কোর্সে এবং এইচএসসি/সমমান পাসের পর স্নাতক/ডিগ্রি পর্যায়ে বাংলাদেশের যেকোনো সরকার অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বা অধ্যয়নরত থাকতে হবে।

বৃত্তির মেয়াদকাল: কতদিন এই বৃত্তি সুবিধা পাবেন?

এই বৃত্তিটি এককালীন নয়। আপনি যে কোর্সের জন্য নির্বাচিত হবেন, সেই কোর্সের নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত এই আর্থিক সুবিধা পাবেন (যদি আপনার ফলাফল সন্তোষজনক থাকে এবং আপনি নিয়মিত ছাত্র/ছাত্রী থাকেন)।

  • এসএসসি ও সমমান ক্যাটাগরি:
    • ২ বছর: যারা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে (এইচএসসি) ভর্তি হয়েছেন।
    • ৪ বছর: যারা ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং বা সমমান কোর্সে ভর্তি হয়েছেন।
  • এইচএসসি ও সমমান ক্যাটাগরি:
    • ৩ বছর: যারা স্নাতক (পাস) কোর্সে ভর্তি হয়েছেন।
    • ৪ বছর: যারা স্নাতক (সম্মান) বা সমমান কোর্সে ভর্তি হয়েছেন।
    • ৫ বছর: যারা এমবিবিএস, বিডিএস বা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি হয়েছেন।
  • ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যাটাগরি:
    • ৪ বছর: যারা ডিপ্লোমা শেষ করে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি হয়েছেন।

অনলাইনে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (সঠিক ফরম্যাটসহ)

আবেদন প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়সাপেক্ষ অংশ হলো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে প্রস্তুত করা। একটি ভুল ফরম্যাট বা অস্পষ্ট কপির কারণে আপনার সম্পূর্ণ আবেদনটি বাতিল হয়ে যেতে পারে।

নিচের চেকলিস্টটি অনুসরণ করুন এবং আবেদন করার আগেই এই সকল ডকুমেন্ট নির্দেশিত ফরম্যাট ও সাইজে প্রস্তুত করে আপনার কম্পিউটার বা মোবাইলে সেভ করে রাখুন।

ডকুমেন্ট চেকলিস্ট এবং সঠিক ফরম্যাট

কাগজের নাম ফরম্যাট / সাইজ গুরুত্বপূর্ণ নোট (অবশ্যই পড়ুন)
১. শিক্ষার্থীর ছবি .jpeg (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড) ৩০০ x ৩০০ পিক্সেল (সর্বোচ্চ ১০০ KB)
২. শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর .jpeg (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড) ৩০০ x ৮০ পিক্সেল (সর্বোচ্চ ৬০ KB)
৩. পিতার/মাতার পাসপোর্টের কপি PDF (৮” x ৬”) স্মার্ট কার্ড/BMET কার্ড/মেম্বারশীপ কার্ডের কপি। (সর্বোচ্চ ৩০০ KB)
৪. বহির্গমন ছাড়পত্র/ভিসা PDF (৮” x ৬”) পাসপোর্টে প্রদত্ত বহির্গমন ছাড়পত্রের সীল অথবা ভিসার পাতার কপি। (সর্বোচ্চ ৩০০ KB)
৫. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রত্যয়ন পত্র PDF (৮” x ৬”) অধ্যয়নরত প্রতিষ্ঠানের প্যাডে নিতে হবে। অবশ্যই প্রতিষ্ঠান প্রধানের নাম, পদবী, সীল ও মোবাইল নম্বর থাকতে হবে। (সর্বোচ্চ ৩০০ KB)
৬. শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন / NID PDF (৮” x ৬”) শিক্ষার্থীর অনলাইন জন্মনিবন্ধন (১৭ ডিজিট) বা জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি। (সর্বোচ্চ ৩০০ KB)
৭. শিক্ষার্থীর ব্যাংক স্টেটমেন্ট PDF (৮” x ৬”) শিক্ষার্থীর নিজের নামে খোলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেকের পাতার কপি বা অনলাইন স্টেটমেন্ট। অবশ্যই রাউটিং নম্বরসহ হতে হবে। (সর্বোচ্চ ৩০০ KB)
৮. দূতাবাসের NOC (শুধু মৃত প্রবাসীর ক্ষেত্রে) PDF (৮” x ৬”) সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রদত্ত “No Objection Certificate” (NOC) বা মৃতদেহ পরিবহন/দাফনের ছাড়পত্র। (সর্বোচ্চ ৩০০ KB)

যে ভুলে আবেদন বাতিল হতে পারে

আমরা দেখেছি, আবেদন বাতিলের সবচেয়ে বড় কারণ হলো ছবি এবং স্বাক্ষর। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর ছবির মাপ অবশ্যই ৩০০x৩০০ পিক্সেল এবং স্বাক্ষরের মাপ অবশ্যই ৩০০x৮০ পিক্সেল হতে হবে।

অনেকেই মোবাইল দিয়ে ছবি তুলে বা যেমন-তেমন সাইজের ছবি আপলোড করে দেন। সিস্টেম এই ছবি গ্রহণ করলেও ভেরিফিকেশনের সময় তা বাতিল করে দেয়। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড অবশ্যই সাদা (white background) হতে হবে। কোনো রঙিন বা প্রাকৃতিক দৃশ্য সম্বলিত ছবি গ্রহণযোগ্য নয়। আবেদনের আগে ফটো এডিটিং সফটওয়্যার বা অনলাইন টুল ব্যবহার করে এই মাপ ঠিক করে নিন। এই ছোট ভুলের কারণে আপনার সম্পূর্ণ পরিশ্রম বৃথা যেতে পারে।

প্রবাসী শিক্ষাবৃত্তি ২০২৫: ধাপে ধাপে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া

সবকিছু প্রস্তুত? এবার চলুন, ধাপে ধাপে আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করি।

ধাপ ১: অফিসিয়াল পোর্টালে প্রবেশ ও রেজিস্ট্রেশন

  • প্রথমে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের শিক্ষাবৃত্তি পোর্টালে (http://stipen.wewb.gov.bd/stipend/#/scholarship-information) প্রবেশ করুন।
  • যদি আপনার আগে কোনো অ্যাকাউন্ট না থাকে, তবে “নিবন্ধন করুন” বাটনে ক্লিক করুন।
  • আপনার নাম, মোবাইল নম্বর (সক্রিয়), ইমেইল এবং একটি পাসওয়ার্ড দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন। আপনার মোবাইলে একটি OTP (One Time Password) যাবে, যা দিয়ে অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করতে হবে।

ধাপ ২: লগইন এবং আবেদন ফরম পূরণ

  • আপনার মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে পোর্টালে “লগইন” করুন।
  • লগইন করার পর ড্যাশবোর্ড থেকে “আবেদন করুন” বা “শিক্ষাবৃত্তির আবেদন” অপশনটি বেছে নিন।
  • একটি ফরম আসবে। এখানে আপনাকে তিন ধরনের তথ্য পূরণ করতে হবে:
    • ব্যক্তিগত তথ্য: শিক্ষার্থীর নাম, জন্ম তারিখ, NID/জন্মনিবন্ধন নম্বর, ঠিকানা ইত্যাদি।
    • প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য: আপনি কোন পরীক্ষায় (এসএসসি/এইচএসসি) পাস করেছেন, পাসের সাল (২০২৫/২০২৪), বোর্ড, জিপিএ এবং বর্তমানে কোন প্রতিষ্ঠানে কোন বর্ষে অধ্যয়নরত আছেন তার বিস্তারিত তথ্য।
    • অভিভাবকের তথ্য: আপনার বাবা/মা (যিনি প্রবাসী) তার নাম, পাসপোর্ট নম্বর, BMET/WEWB মেম্বারশীপ নম্বর এবং তিনি কোন দেশে কর্মরত আছেন সেই তথ্য।

ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড

  • এটিই সবচেয়ে সতর্কতার ধাপ। উপরের টেবিল ২-এ উল্লেখিত প্রতিটি ডকুমেন্ট নির্দিষ্ট স্থানে আপলোড করুন।
  • প্রতিটি ফাইল আপলোড করার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে এটি সঠিক ফরম্যাটে (.jpeg বা .pdf) এবং নির্দিষ্ট সাইজের (৩০০x৩০০ পিক্সেল, ৩০০x৮০ পিক্সেল, ইত্যাদি) মধ্যে আছে।
  • ফাইলগুলো যেন অবশ্যই স্পষ্ট এবং পাঠযোগ্য হয়। অস্পষ্ট কপির কারণে আবেদন বাতিল হতে পারে।

ধাপ ৪: ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য প্রদান

  • এই ধাপে শিক্ষার্থীর নিজের নামে খোলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য প্রদান করতে হবে।
  • যৌথ অ্যাকাউন্ট (Joint Account) বা অভিভাবকের অ্যাকাউন্ট গ্রহণযোগ্য নয়।
  • ব্যাংকের নাম, শাখার নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং রাউটিং নম্বর সঠিকভাবে পূরণ করুন।

ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং প্রত্যয়ন পত্র 

প্রত্যয়ন পত্র: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রত্যয়নপত্রে অবশ্যই তার মোবাইল নম্বর থাকতে হবে। এটি বাধ্যতামূলক। বোর্ড কর্তৃপক্ষ ভেরিফিকেশনের জন্য এই নম্বরে কল করতে পারে।

শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাব নম্বর অবশ্যই সক্রিয় (Active) এবং অনলাইন ব্যাংকিং-এর আওতাভুক্ত হতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রাউটিং নম্বর (Routing Number)। এটি একটি ৯ ডিজিটের নম্বর যা প্রতিটি ব্যাংক শাখাকে স্বতন্ত্রভাবে চেনে। এই নম্বর ভুল হলে বৃত্তির টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হবে না। আপনার চেকের পাতায় এই নম্বরটি লেখা থাকে, অথবা আপনি ব্যাংকের শাখায় কল করে এটি জেনে নিতে পারেন।

ধাপ ৫: আবেদন সাবমিট এবং প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ

  • সম্পূর্ণ ফরমটি পূরণ এবং সব ডকুমেন্ট আপলোড করার পর “সাবমিট” করার আগে অবশ্যই “প্রিভিউ” বা “দেখুন” অপশনে ক্লিক করে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নিন।
  • কোথাও ভুল থাকলে “এডিট” বা “সম্পাদনা” করে ঠিক করুন।
  • সবকিছু ঠিক থাকলে “সাবমিট” বা “দাখিল করুন” বাটনে ক্লিক করুন।
  • আবেদন সফলভাবে সাবমিট হলে আপনি একটি আবেদনপত্রের কপি বা ট্র্যাকিং নম্বর পাবেন। এই কপিটি অবশ্যই প্রিন্ট করে বা PDF হিসেবে আপনার কাছে সংরক্ষণ করুন। ভবিষ্যতে বৃত্তির স্ট্যাটাস চেক করার জন্য এটি প্রয়োজন হবে।

আবেদন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও তথ্য

আবেদনের শেষ তারিখ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ (মঙ্গলবার), রাত ১১:৫৯ মিনিট পর্যন্ত। শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিস্তারিত তথ্য: যেকোনো তথ্যের জন্য বা সার্কুলারটি নিজে দেখতে চাইলে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (https://wewb.gov.bd) ভিজিট করুন।

আপনার উচ্চশিক্ষার যাত্রায় আমরা আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে পারি:

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

আবেদনকারীদের মনে সচরাচর যে প্রশ্নগুলো আসে, সেগুলোর উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

আবেদন করতে কি কোনো ফি লাগে?

না, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কোনো প্রকার আবেদন ফি বা চার্জ নেই।

ব্যাংক একাউন্ট কি শিক্ষার্থীর নিজের নামে হতে হবে?

হ্যাঁ, এটা বাধ্যতামূলক। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবশ্যই আবেদনকারী শিক্ষার্থীর নিজের নামে (NID বা জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী) হতে হবে। অভিভাবকের নামে বা যৌথ নামে (Joint Account) খোলা অ্যাকাউন্ট গ্রহণযোগ্য নয়।

আমি কি ডিপ্লোমা কোর্সের জন্য আবেদন করতে পারবো?

হ্যাঁ, পারবেন। আপনি যদি ২০২৫ সালে এসএসসি পাস করে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং বা সমমান কোর্সে ভর্তি হন, অথবা ২০২৪ সালে ডিপ্লোমা পাস করে বিএসসি-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি হন, তবে আপনি এই বৃত্তির জন্য যোগ্য। (যোগ্যতার টেবিলটি দেখুন)।

মৃত প্রবাসী কর্মীর সন্তান হিসেবে কী অতিরিক্ত ডকুমেন্ট লাগবে?

মৃত প্রবাসী কর্মীর সন্তানদের ক্ষেত্রে, অভিভাবকের মৃত্যুর প্রমাণস্বরূপ সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রদত্ত “No Objection Certificate” (NOC) বা মৃতদেহ পরিবহন/দাফনের ছাড়পত্রের PDF কপি আপলোড করতে হবে।

আমি কি একইসাথে অন্য কোনো সরকারি বৃত্তি নিতে পারবো?

সাধারণত, কোনো শিক্ষার্থী একই সময়ে দুটি সরকারি উৎস থেকে বৃত্তি বা উপবৃত্তি গ্রহণ করতে পারেন না। আপনাকে আবেদন ফরমে এই বিষয়ে একটি ঘোষণাপত্র (Declaration) দিতে হতে পারে। যদি আপনি অন্য কোনো সরকারি বৃত্তি (যেমন: শিক্ষা বোর্ডের মেধা বা সাধারণ বৃত্তি) পেয়ে থাকেন, তবে যেকোনো একটি আপনাকে বেছে নিতে হবে।

শিক্ষা থেকে পড়ুনক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষা ২০২৬: সিলেবাস, মানবণ্টন ও গাইড

প্রবাসী কর্মীর সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি ২০২৫ কেবল একটি আর্থিক সহায়তা নয়, এটি আপনার অভিভাবকের প্রবাস জীবনের কঠোর পরিশ্রমের একটি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। এই সুযোগটি আপনার উচ্চশিক্ষার পথকে নিঃসন্দেহে অনেক মসৃণ করতে পারে।

এই আর্টিকেলের গাইডলাইন অনুসরণ করে, প্রতিটি ডকুমেন্ট নিখুঁতভাবে প্রস্তুত করুন এবং ২৫ নভেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে আপনার আবেদনটি শতভাগ নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করুন। আপনার শিক্ষাজীবনের জন্য রইলো শুভকামনা!

তথসূত্র: https://wewb.gov.bd

শিক্ষা থেকে পড়ুনঢাকা কলেজে একাদশে বিশেষ কোটায় ভর্তির সুযোগ: জিপিএ শর্ত শিথিল, জানুন বিস্তারিত

Related Posts

এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬

এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: অনিয়মিত, ফেল করা ও জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের করণীয় কী? কোন সিলেবাসে পরীক্ষা?

মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি-তে ‘Management Trainee Officer’ পদে চাকরি

Meghna Bank Job Circular 2025

মেঘনা ব্যাংক পিএলসি-তে রিলেশনশিপ ম্যানেজার (সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স) পদে চাকরি, কর্মস্থল: ঢাকা

Leave a Comment